মানুষের প্রতিনিধিত্ব মানে শুধু অফিসের চেয়ারে বসা নয়—মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো। একজন জনপ্রতিনিধির কাছে মানুষের সবচেয়ে সাধারণ আর জরুরি প্রয়োজনগুলোর একটি হলো স্বাক্ষর। অথচ দুঃখজনক সত্য হলো, অনেক চেয়ারম্যানই যেন এই স্বাক্ষর দেওয়াটাকেই বড় কষ্টের কাজ মনে করেন। কখনো সময় নেই, কখনো ব্যস্ততা—এমন নানা অজুহাতে মানুষকে ঘুরতে হয় দিনের পর দিন।
কিন্তু এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম একটি নাম আছে—মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রমিক কল্যাণ বিভাগের জেলা সহ-সভাপতি, আশাশুনি উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও ১ নং শোভনালী ইউনিয়নের সুযোগ্য চেয়ারম্যান।
সেদিন তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে যাচ্ছিলেন। ব্যস্ততা আর দায়িত্বের চাপ ছিলো চোখে মুখে। ঠিক তখনই এক ব্যক্তি দৌঁড়ে এসে বললেন—
“হুজুর, একটু দাঁড়ান… একটি স্বাক্ষর লাগবে।”
অন্য কেউ হলে হয়তো বলতেন, “এখন নয়, পরে আসেন।”
কিন্তু না—মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক থেমে গেলেন। ফিরে তাকালেন মানুষটির দিকে। কোন বিরক্তি নয়, কোন দ্বিধা নয়—বরং সঙ্গে সঙ্গেই কাগজটি নিয়ে স্বাক্ষর করে দিলেন।
একটি ক্ষুদ্র কাজ, কিন্তু এর মধ্যেই লুকিয়ে আছে একজন প্রকৃত নেতার চরিত্র।
মানুষের জন্য নিজের সময়, নিজের ব্যস্ততা, নিজের প্রয়োজন পাশে সরিয়ে রেখে মুহূর্তেই সেবা দেওয়া—এটাই তো একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত পরিচয়।
আজ সমাজে এমন মানুষ খুবই কম।
জনগণের সেবাকে নিজের দায়িত্ব নয়, বরং ইবাদত মনে করেন যারা, তারাই সমাজকে বদলে দিতে পারেন। আর সেই বিরল মানুষগুলোর একজন হলেন মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক।
শোভনালী ইউনিয়নের মানুষের মুখে মুখে তার এই মানবিকতার কথা।
একজন চেয়ারম্যানের আসল পরিচয় তাঁর পদবি নয়—তাঁর আচরণ, তাঁর সেবা, আর মানুষের জন্য তাঁর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
এ কারণে তিনি আজ শুধু একজন চেয়ারম্যান নন, বরং মানুষের কাছে বিশ্বাসের নাম, ভরসার ঠিকানা।