ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবিতে কিশোরগঞ্জে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিকরা। রোববার (২8) ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে ভুক্তভোগীরা জেলা প্রশাসকের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে কিশোরগঞ্জ–করিমগঞ্জ চামটাঘাট সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও আজ পর্যন্ত কয়েক শত পরিবার তাদের অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের টাকা পায়নি। এলএ কেস নং–৯ এর আওতায় ক্ষতিপূরণ এখনো পরিশোধ করা হয়নি। সড়কের পাশে অনেক বসতবাড়ি অধিগ্রহণে পড়লেও ক্ষতিপূরণের অর্থ না পাওয়ায় তারা ঘরবাড়ি মেরামত বা পুনর্গঠন করতে পারছেন না। প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও ভুক্তভোগীরা এখনো অর্থ হাতে পাননি বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। প্রাক্কলন প্রস্তুত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গত মে মাসে পাঠানো হয়েছে। তবে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত প্রাক্কলিত অর্থ এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “আমরাও চাই ভুক্তভোগীদের টাকা দ্রুত তাদের হাতে পৌঁছে দিতে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা জমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রায় ১২৪ কোটি টাকার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নিয়মিত তাগিদ ও তদবির করা হচ্ছে। আশা করছি শিগগিরই এ বিষয়ে ভালো খবর পাওয়া যাবে।”
কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, এ প্রকল্পে মোট পাঁচটি এলএ মামলা ছিল। এর মধ্যে চারটির ক্ষতিপূরণের টাকা ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। কেবল একটি মামলা বাকি রয়েছে, যার প্রাক্কলিত মূল্য প্রায় ১২৩ কোটি টাকা।
মানববন্ধনে চামটা বন্দর ও করিমগঞ্জ এলাকার ভুক্তভোগীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মো. কবির উদ্দিন ভূঁইয়া (৪৪), মো. আজহারুল ইসলাম আরজু (৫৫), মো. জুয়েল মিয়া (৩৮), মো. রেনু মিয়া (৫৬), মো. হেলাল মিয়া (৪৩) ও মো. হেলিম মিয়া (৪০)।
ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে প্রায় দুই শতাধিক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন এবং দ্রুত ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধের দাবি জানান।