কালিগঞ্জে সওজের উচ্ছেদ অভিযান: শত শত স্থাপনা অপসারণ, অনিয়ম–বৈষম্যের অভিযোগ স্থানীয়দের
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরা–শ্যামনগর আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ বৃহৎ পরিসরে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত স্টার ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে কালিগঞ্জ সরকারি কলেজ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ শতাধিক দোকান, টিনশেড ও বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। অভিযানে ভাঙা হয়েছে বাস টার্মিনাল তারালি মোড়,কাকশিয়ালি ব্রিজ এলাকা থেকে উচ্ছেদ অভিযানে অংশ নেওয়া সরকারি টিম,কালিগঞ্জ বাস টার্মিনাল এলাকা তারালি চৌরাস্তা মোড় হাসপাতাল রোডে আংশিক,কালিগঞ্জ ব্রিজের দক্ষিণ পাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মূড়াল,ফুলতলা মোড়,বাজার গ্রাম রহিমপুর মাদ্রাসার প্রধান গেট,পরপর ভেঙে ফেলছে ।সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে অনিয়ম বৈষম্যের অভিযোগ
উচ্ছেদ অভিযানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনগণ। তাদের দাবি কিছু স্থাপনায় লালচিহ্ন দিয়ে টাকা নিলে পরে চিহ্ন মুছে ফেলা হয়েছে।
একই সারির দোকানের মধ্যে কিছু ভাঙা হয়েছে, কিছু রক্ষা পেয়েছে। মামলার কাগজ, ডিসিআর বা আদালতের নথি দেখিয়ে অনেকেই স্থাপনা ভাঙা থেকে রেহাই পেয়েছেন। সওজের কিছু অসাধু কর্মচারী ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে অর্থবাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। নলতা এলাকায় মাত্র ৬ ইঞ্চি জায়গার জন্য একটি মসজিদের অংশ ভাঙলেও পাশের মন্দির ও কিছু দোকান না ভাঙায় আরও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন,
আমরা রাস্তা চাই, কিন্তু বৈষম্য চাই না। প্রভাবশালী মহলের কারণে অনেক স্থাপনা রেহাই পেয়েছে।
৬১ বছর ধরে বসবাস হঠাৎ উচ্ছেদে বিপাকে শতশত পরিবার ১৯৬৪ সালে সওজ কালিগঞ্জের উত্তর–দক্ষিণ অঞ্চলে প্রায় ৫০০–৬০০ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করে। এরপর ৬১ বছর এসব জমিতে স্থানীয় ভূমিহীনসহ নানা শ্রেণীর মানুষ বসতি, দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে।প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নীরবতা ও নজরদারির অভাবেই এই দখল স্থায়ী আকার ধারণ করে বলে দাবি স্থানীয়দের।হঠাৎ উচ্ছেদে তারা মানববন্ধন
প্রতিবাদ বিক্ষোভ জেলা প্রশাসক ও ইউএনওকে স্মারকলিপি দিয়ে পুনর্বাসনের দাবি জানায়।
গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ীই উচ্ছেদ দাবি সওজের
এর আগে ১৮ নভেম্বর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে গাজীরহাট থেকে বাস টার্মিনাল হয়ে কাকশিয়ালী ব্রিজ পর্যন্ত সব অবৈধ স্থাপনা নিজ উদ্যোগে সরাতে হবে। অনেকে নির্দেশ মেনে স্থাপনা সরালেও, নির্দেশ অমান্যকারীদের স্থাপনা ভেঙে ফেলে সওজ। তবে কিছু চিহ্নিত স্থাপনা অজানা প্রভাবশালী মহলের কারণে রেহাই পেয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ওঠে।
লাইভ প্রতিবেদনে সাংবাদিকরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
সড়ক প্রশস্তকরণে স্বস্তি ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন দাবি অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, অবৈধ স্থাপনার কারণে রাস্তা সরু হয়ে যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ত। এখন চলাচল সহজ হবে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও বসবাসকারীরা বলেন কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ। বৈষম্যমুক্ত উচ্ছেদ চাই এবং পুনর্বাসন জরুরি।