কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের ভিটাদিয়া গ্রামে আপন বড় ভাইয়ের পুৃত্রের (ভাতিজা) হাতে চাচা খুন হয়েছেস । ২৯ জানুয়ারী (বৃহষ্পতিবার) সকাল ৮টার বাড়ির পাশে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে টেঁটা বিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন চাচা মাহমুদুল হাসান কামাল ও তার ছেলে কাঁকন । পরে কামালকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পর বিকাল ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
জানা যায়, ভিটাদিয়া গ্রামের হাজী মরহুম খুর্শিদ উদ্দিনের বড় পুত্র জালাল উদ্দিন ও ছোটপুত্র মাহমুদুল হাসান কামাল। জালাল উদ্দিন ভিটাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্প্রতি অবসরে যাওয়া প্রধান শিক্ষক। পৈতৃক জায়গায় বিদ্যালয় হওয়ায় সবসময় আধিপত্য বিস্তার করতেন তিনি। বদমেজাজি এই শিক্ষক চাকুরিকালীন অবস্থায় সহকারি শিক্ষক (আপন বোনসহ) অন্যান্য শিক্ষিককের গায়ে হাত তুলতে দ্বিধাবোধ করতেন না। পরবর্তিতে স্কুল থেকে অন্যত্র বদলি হন আপন বোনসহ অন্য শিক্ষক।
তারই পুত্র সাদ্দাম হোসেন। খুবই উগ্র এবং ত্রাস স্বভাবের। কয়েক বছর আগে বিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে চোখ উপরে ফেলে। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। পরে থানায় মামলা হলেও সাদ্দামের কিছুই হয়নি।
এদিকে, মাহমুদুল হাসান (কামাল) আচমিতা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য। বড় ভাই জালাল উদ্দিনের সাথে পৈতৃক জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ কামাল মেম্বারের বিরোধ চলে আসছে। তারই সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার সকালে দুই পরিবারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে দেশিয় অস্ত্র টেঁটা, বল্লম নিয়ে জালাল ও সাদ্দাম ঝাপিয়ে পড়ে কামালের পরিবারের উপর। এক পর্যায়ে মাথায় টেঁটাবিদ্ধ হন কামাল মেম্বার এবং হাতে টেঁটা বিদ্ধ হয় কামালের পুত্র কাঁকন।
টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কামালকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বিকাল ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
স্থানীয়রা বলেন, পূর্বের অপরাধে সাদ্দামের বিচার হয়নি বলে, এই অপরাধ ঘটাতে দ্বিধা করেনি।
এ ঘটনায় জালাল উদ্দিন এবং তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাদ্দাম এখনো পলাতক।