কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের একটি আবাসিক হোটেলের লিফটে বরসহ ১০ জন আটকে পড়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর তাদের জীবিত উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে শহরের স্টেশন রোডে অবস্থিত খান টাওয়ারের হোটেল শেরাটনের নিচতলার একটি দেয়াল ভেঙে তাদের উদ্ধার করা হয়।
এর আগে বেলা পৌনে ৩টার দিকে হোটেলের চারতলা থেকে দোতলায় নামতে গিয়ে ছয়জন ধারণক্ষমতার লিফটে ১০ জন ওঠেন। অতিরিক্ত ওজনের কারণে লিফটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচের দিকে নেমে গিয়ে প্রান্তসীমায় আটকে পড়ে। এতে বরসহ সবাই ভেতরে আটকা পড়েন।
প্রযুক্তিসম্পন্ন লিফটটি ছিঁড়ে পড়েনি, বরং নিরাপত্তা সুবিধার কারণে নিচে গিয়ে থেমে যায়। ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা লিফটের ইন্টারকমের মাধ্যমে হোটেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। হোটেলের নিচতলায় লিফট সংলগ্ন দেয়াল ভেঙে একে একে আটকে পড়া ১০ জনকে বের করে আনা হয়। কেউ শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হননি।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—আতিকুর রহমান (৪০), মিনহাজ ইবনে ফারুক (৩০), জোনায়েদ তারেক (৩৫), মোনতাছির (২৫), ইয়াহিয়া তানভীর (২০), এমদাদ (৪০), হুমায়ুন কবির (৩০), রাইছুস সালেহীন (৩৫), রেজওয়ানুল হক (৩৯) ও জারিফ (৩২)। তাদের মধ্যে বর জোনায়েদ তারেক। সবার বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তেকোটা গ্রামে।
জানা যায়, দূরবর্তী এলাকা থেকে আসায় বরপক্ষের লোকজন বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) হোটেল শেরাটনে অবস্থান করেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর শহরের পুরানথানার ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। মধ্যাহ্নভোজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময়ই লিফটে অতিরিক্ত লোক ওঠায় এ ঘটনা ঘটে।
কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লিডার আমিনুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করি। লিফটে আটকে পড়া ১০ জনকেই জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
হোটেল শেরাটনের চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিন খান বলেন, লিফটে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না। ছয়জন ধারণক্ষমতার লিফটে দ্বিগুণ লোক ওঠায় সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিচে নেমে যায়। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কারণে ভেতরের কেউ বিপদের মুখে পড়েননি। ফায়ার সার্ভিস দক্ষতার সঙ্গে দেয়াল ভেঙে সবাইকে উদ্ধার করেছে।