কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের নিয়োগ–দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে চলমান টানাপোড়েন চলছিল। নানা অভিযোগে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বরখাস্ত করে সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শামছ উদ্দিনকে। কিন্তু ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পরিচালনা কমিটির সভাপতি তানভীর আহমেদকে বরখাস্ত করেছে। এমনকি ওই শিক্ষককে আবার পুনর্বহালের চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, বালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শামছ উদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম মামলাজনিত কারণেছুটিতে গেলে সেই সুযোগে, ২০১১ সালের ২৯ জানুয়ারি জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে সর্বকনিষ্ঠ সহকারী শিক্ষক শামছ উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন তৎকালীন ইউএনও। এরপর তিনি ( শামছ উদ্দিন) সহকারী প্রধান শিক্ষক ও গ্রন্থাগারিক পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে পাঁচজন আবেদন করলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামছ উদ্দিন নিজেও প্রার্থী হন। একই সময়ে তিনি নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে নিয়োগ কমিটি তাঁকেই সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়। তাঁর নিজের নিয়োগপত্রে সদস্য সচিব হিসেবে তিনি নিজেই স্বাক্ষর করেন। এ ঘটনাটিকে পরিচালনা কমিটির সভাপতি (বরখাস্ত) চরম অনিয়ম ও দুর্নীতি বলে দাবি করেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি (বরখাস্ত) তানভীর আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে থাকাকালীন শামছ উদ্দিন ছয় বছর ধরে একসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে দুটি বেতন গ্রহণ করেন। এই সময়ে তিনি অবৈধভাবে ৫ লাখ ১৪ হাজার ৮২০ টাকা উত্তোলন করেন বলে তাঁর অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে চলা বিশৃঙ্খলার পর এ বছরের ৩১ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশে বালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়। এতে সভাপতি করা হয় তানভীর আহমেদকে। কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর শামছ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত শুরু করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২৬ সেপ্টেম্বর শামছ উদ্দিনকে বরখাস্ত করে কমিটি। একইসঙ্গে বরখাস্ত অনুমোদনের জন্য বোর্ডে পাঠায়। এদিকে শিক্ষা বোর্ড ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে গত ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর কমিটির সভাপতি তানভীর আহমেদকে উল্টো বরখাস্তের চিঠি পাঠায়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন বোর্ডের সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক। এ পরিস্থিতিতে আজ শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন বরখাস্ত সভাপতি তানভীর আহমেদ। লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, ‘যেখানে বোর্ডের উচিত ছিল কমিটির সিদ্ধান্তে বরখাস্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক শামছ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, সেখানে উল্টো আমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এটা আইনত অবৈধ।’ তিনি আরও বলেন, বরখাস্তের আগে তাঁকে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং কোন অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে তাও উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিদ্যালয় পরিদর্শক বরখাস্তের চিঠি দেওয়ার কথা। কিন্তু এখানে নিয়ম ভঙ্গ করে চিঠি দিয়েছেন সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক। এই অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তানভীর আহমেদ বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিদ্যালয় পরিদর্শক, জেলা প্রশাসক, ইউএনওসহ মোট নয়জনকে বিবাদী করে গত ২৫ নভেম্বর করিমগঞ্জ সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে মামলা ( মোকদ্দমা) করেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক শামছ উদ্দিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা। সম্প্রতি বোর্ডই বরং এডহক কমিটির সভাপতিকে বরখাস্ত করেছে। আর আমাকে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে পুনর্বহালের জন্য চিঠি দিয়েছে বোর্ড। এখন নতুন করে পুরনো বিষয়গুলো সামনে আনছে। যেন আমি স্বপদে ফিরতে না পারি। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যালয়ের দাতাসদস্য নূরুল ইসলাম, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য আবদুস সোবহান, সাবেক অভিভাবক সদস্য খুরশিদ উদ্দিন, ছাত্র অভিভাবক আব্দুস সাত্তার, সোহরাব উদ্দিন, নোয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মানিক।
https://www.kaabait.com