কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল থানার বাসিন্দা সাঈদ নিজামের বিরুদ্ধে সীমিত আয়ের বিপরীতে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইসলাহুল মুসলিমীন পরিষদ বাংলাদেশ-এর একজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হিসেবে মাসিক আনুমানিক মাত্র ২০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করলেও তিনি দেশের বিভিন্ন জেলায় বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিজাম সাঈদের মালিকানায় ঢাকায় ফ্ল্যাট-বাড়ি, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীতে একাধিক ফ্ল্যাট, কিশোরগঞ্জের শহরে তিনটি বাড়ি, ময়মনসিংহের নান্দাইলে পাঁচতলা ভবনসহ বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক সম্পদ রয়েছে। এছাড়াও তার নামে উল্লেখযোগ্য ব্যাংক ব্যালেন্স, গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের তথ্য আলোচনায় এসেছে।
❗ আয়–ব্যয়ের বড় অসঙ্গতি
সচেতন মহলের প্রশ্ন—স্বল্প বেতনের চাকরি করে এত বিপুল সম্পদের উৎস কী? আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক লেনদেন ও সম্পদ বিবরণীর সঙ্গে বাস্তব সম্পদের তুলনামূলক যাচাই হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন তারা।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, তাড়াইল উপজেলার জাওয়ার ইউনিয়নের বেলংকা গ্রামে অবস্থিত জামিয়াতুল ইসলাহ আল মাদানিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে নাম ব্যবহার করে তিনি ওই প্রতিষ্ঠান থেকেও মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা ভোগ করছেন। স্থানীয়দের দাবি, ঢাকায় কর্মরত অবস্থায় নিয়মিত উপস্থিতি ছাড়াই কীভাবে তিনি একটি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ আছে, তিনি একদিনও ওই প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাঈদ নিজামের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তবুও এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে থাকার পরও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি।
এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—
🔹 তদন্তে গাফিলতি কি ইচ্ছাকৃত?
🔹 নাকি প্রভাবশালী মহলের কারণে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে?
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রতিও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন—
🔸 দুদক কি তার আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক হিসাব ও সম্পদ বিবরণী খতিয়ে দেখেছে?
🔸 অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু হয়েছে কি না?
🔸 সীমিত আয়ের বিপরীতে বিপুল সম্পদের উৎস নির্ধারণে ফরেনসিক অডিট করা হবে কি?
কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকার আওয়ামী লীগ আমলে সাঈদ নিজামের সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে জলমহল দখল, গ্রামবাসীর বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সময় হয়রানিমূলক মামলার সংস্কৃতির সঙ্গেও তার নাম জড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি আওয়ামী লীগ আমলের তথাকথিত ‘ডেভিল হান্টার’ সংশ্লিষ্ট নাম তালিকায় নিজাম সাঈদের পরিবারের নাম থাকলেও আইনগত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি এলাকাবাসীর। তার পিতা মরহুম নিজাম উদ্দিন আহমেদ এবং মাতা খোদেজা বেগম।
তবে সচেতন মহলের অভিমত—আইনের শাসনে অভিযোগ প্রমাণের একমাত্র পথ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত। রাজনৈতিক পরিচয় নয়, ডকুমেন্টই চূড়ান্ত সত্য তুলে ধরবে।
এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত। অভিযোগ সত্য হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা, আর মিথ্যা হলে তা প্রমাণ করে জনমনের সংশয় দূর করা হোক।বিগত আওয়ামী ফেসিস্টের আমলে বিভিন্ন হেভিওয়েট নেতাদের সাথে গভীর সম্পর্কের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রমান পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে নিজাম সাঈদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেন ।
অভিযোগ সত্য-মিথ্যা নির্ধারণের দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় সংস্থার। তবে তদন্তহীন নীরবতা সন্দেহ ও কৌতূহলকে আরও তীব্র করছে। এখন দেখার বিষয়—প্রশাসন ও দুদক কি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আইনের শাসনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, নাকি প্রশ্নগুলো আরও গভীর হবে।